সারাদেশে আওয়ামীলীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা এবং গণতন্ত্রকামী ও প্রগতিশীল নাগরিকবৃন্দের উপর সংগঠিত আক্রমণ তথা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আপসহীন উচ্চারণ ও কঠোর প্রতিবাদ।
সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে গণতন্ত্রকামী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তি, আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মী–সমর্থক, ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি এবং দলীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জান–মাল, বসতবাড়ি ও কার্যালয়ের ওপর সংঘটিত ধারাবাহিক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘ
টনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা এবং আপসহীন প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন বা স্বতঃস্ফূর্ত উন্মত্ততা নয়; এটি পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে নিশ্চিহ্ন করা, প্রগতিশীল কণ্ঠ স্তব্ধ করা এবং ভয়ভিত্তিক কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েমের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক আগ্রাসন।
গত কয়েকদিনে রাজনৈতিক সহিংসতা ভয়াবহ ও বর্বর রূপ ধারণ করেছে। ঢাকায় ধানমন্ডি ৩২–এর ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নে পুনরায় ভাঙচুর, চট্টগ্রামে বরেণ্য রাজনীতিবিদ প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন ও আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে হামলা, বান্দরবানে সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং–এর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, দিনাজপুরে আওয়ামী লীগ সরকারের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর বাসভবনে আগুন ও ভাঙচুর, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জাতীয় পার্টির একাংশের সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের গ্রামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং প্রগতিশীল এক্টিভিস্ট সুশান্ত দাস গুপ্ত এবং শাহিনুর ইসলামের বাড়িতে বর্বর হামলা – এসব ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সহিংসতার লক্ষ্য কেবল কোনো একটি রাজনৈতিক দল নয়। গণতন্ত্রকামী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সবাই আজ সংঘবদ্ধ মব-সন্ত্রাসের শিকার।
এই সহিংসতা বহুদলীয় গণতন্ত্র, সাংবিধানিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের ওপর সরাসরি আঘাত এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ও মুক্তচিন্তার বিপরীতে পরিচালিত লক্ষ্যভিত্তিক সন্ত্রাসের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে রাজশাহী, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এই আগ্রাসন মানুষের মৌলিক মানবাধিকার, বিশেষত জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে নাগরিককে তার বাড়ি, জীবন ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত করা মানেই রাষ্ট্রকে সচেতনভাবে ভয়, অরাজকতা ও দমননীতির পথে ঠেলে দেওয়া।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো সরকারের গঠনমূলক সমালোচক, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী এবং ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে মব-সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত করা হচ্ছে। এর ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার অধিকার এবং আইনের শাসন কার্যত ভেঙে পড়েছে; রাষ্ট্র নিজেই নাগরিক অধিকারের প্রধান হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এই সংগঠিত সহিংসতা কোনো আকস্মিক বিশৃঙ্খলা নয়; এটি একটি চরম রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিকল্পিত নিষ্ক্রিয়তা, রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার পৃষ্ঠপোষকতায় মব-সন্ত্রাস আজ একটি কার্যকর রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। দেশের বাস্তবতা এখন নির্মমভাবে স্পষ্ট এখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক কিংবা সচেতন নাগরিকই নিরাপদ নয়; মত প্রকাশ, সংগঠন করা এবং ভিন্নমত পোষণ করা নিজেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধে পরিণত হয়েছে।
ইউ’কে সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিচ্ছে আমরা এই অবৈধ, দখলদার সরকারের কাছে কোনো দাবি জানাই না। যে সরকার ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতা দখল করে, মব-সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করে এবং নাগরিকের জান–মাল ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ, তার কাছে দাবি জানানো মানে সেই অবৈধ শাসনকে স্বীকৃতি দেওয়া। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কোনো করুণা বা মিথ্যা আশ্বাস চায় না; আমরা এই সরকারের পতন নিশ্চিত করেই জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করব, নেতা–কর্মী–সমর্থক ও গণতন্ত্রকামীদের ওপর চালানো প্রতিটি নির্যাতন ও অন্যায়ের হিসেব নেব এবং জনগণের হাতে তাদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেব একটি সুষ্ঠ, নিয়মতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জনগণের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংগ্রাম আপসহীনভাবেই চলবে।

