ঢাকাশুক্রবার , ৯ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি

ডাকাতদের হাতে বাংলাদেশ!

মোঃ শাহিনুর ইসলাম।
জানুয়ারি ৯, ২০২৬ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডাকাতদের হাতে বাংলাদেশ!
——–মিরপুরে রোববার সকালে যখন আবর্জনা সংগ্রহকারীরা রাস্তায় নামলেন, তখন এই দেশের মানুষের কাছে আরেকবার পরিষ্কার হয়ে গেল যে জুলাইয়ের তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানের নামে যে ক্যু হয়েছে, তার আসল ফসল কী। নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে যখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসানো হয় মুহাম্মদ ইউনুসকে, তখন তার সাথে হাত মিলিয়েছিল বিএনপি আর জামায়াত। আর এখন সেই জোটের ছত্রছায়ায় দেশজুড়ে চলছে চাঁদাবাজির উৎসব।মোহাম্মদ ফারুক দিনে তিনশ ফ্ল্যাটের আবর্জনা সংগ্রহ করেন। তিনবার ভ্যান টানেন। মাসে আয় হয় সাত-আট হাজার টাকা। এই টাকা থেকেই তাকে দিতে হচ্ছে ছয়-সাত হাজার টাকা চাঁদা। মানে তার পুরো মাসের পরিশ্রমটাই যাচ্ছে চাঁদাবাজদের পকেটে। এই হলো অবস্থা। দেশের সবচেয়ে নিচের তলার মানুষগুলোকে লুটে নিচ্ছে সেই শক্তিগুলো, যারা জুলাইয়ের রক্তপাতকে পুঁজি করে ক্ষমতায় এসেছে।কারওয়ান বাজারে গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা যখন শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছিলেন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, তখন তাদের ওপর হামলা চালানো হলো। ব্যবসায়ীরা সরাসরি বললেন যুবদলের লোকজন এই হামলা করেছে। পুলিশ অবশ্য নিশ্চিত করতে পারেনি কিছু। আর পারবেই বা কীভাবে? যে প্রশাসন এখন চলছে একটা অবৈধ ক্ষমতাসীন চক্রের অধীনে, সেখানে সত্য প্রকাশের সাহস কোথা থেকে আসবে? ইউনুস যাকে এই দেশের মানুষ চেনে সুদের ব্যবসায়ী হিসেবে, যিনি গরিব মানুষকে ঋণের জালে আটকে রেখে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন, তাকে বসানো হয়েছে দেশ চালাতে। কীভাবে? বিদেশি প্রভুদের টাকায়, ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ের তৎপরতায়, আর সামরিক বাহিনীর নীরব সমর্থনে। জুলাইয়ে যে দাঙ্গা হলো, যে রক্তপাত হলো, তার পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত একটা ষড়যন্ত্র। লক্ষ্য ছিল একটাই: নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়া।এখন দেশে কী হচ্ছে? রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা পর্যন্ত চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। যারা দিনমজুর, যাদের আয় দিয়ে সংসার চালানোই কষ্ট, তাদেরও ছাড়ছে না এই চাঁদাবাজরা। আর এই চাঁদাবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে কারা? বিএনপি আর জামায়াত। যে দুই দল মিলে এই দেশে যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজি বেড়েছে জ্যামিতিক হারে।জামায়াতের কথা আলাদা করে বলতে হয়। যে সংগঠন একাত্তরে এই দেশের মানুষ হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে, এখন তারাই নাকি গণতন্ত্রের মুক্তিদাতা। ইউনুসের সরকারে তাদের প্রভাব এতটাই যে মাঠে এখন জামায়াত ঘরানার ক্যাডাররা খোলামেলা তাণ্ডব চালাচ্ছে। আর বিএনপি? এই দল তো চাঁদাবাজির জন্য বরাবরই কুখ্যাত। তারেক রহমানের আমলে হাওয়া ভবনের যে দুর্নাম ছিল, সেই ইতিহাস কি কেউ ভুলে গেছে? মিরপুর থানার ওসি বলেছেন, ভ্যানওয়ালারা যখন বের হন তখনই নাকি কেউ একজন এসে একশ-দুইশ টাকা দাবি করে। কে এই কেউ? কেন পুলিশ তাদের ধরতে পারছে না? কারণ খুব সহজ। যারা চাঁদা আদায় করছে, তাদের পেছনে আছে রাজনৈতিক ছত্রছায়া। আর সেই রাজনৈতিক দলগুলো এখন ক্ষমতায়। তাহলে পুলিশ কীভাবে ব্যবস্থা নেবে?জুলাইয়ের ঘটনাকে যারা বিপ্লব বলে চালিয়ে দিতে চাইছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন: এই যে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে, চাঁদাবাজি ছড়িয়ে পড়ছে, এটা কি বিপ্লবের ফল? নাকি এটাই আসল উদ্দেশ্য ছিল? দেশকে একটা অরাজক পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়ে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করা? আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথা এখন আর গোপন নয়। কোন দেশগুলো টাকা দিয়েছে, কারা মদদ দিয়েছে, সেসব তথ্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত। বাংলাদেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা ছিল পশ্চিমা শক্তিগুলোর লক্ষ্য। কারণ স্বাধীনভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ তাদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের জন্য হুমকি ছিল। আর ইউনুস হলেন সেই আন্তর্জাতিক মহলের একজন পছন্দের মানুষ। তাকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে এই দেশ চালাতে। এখন প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা কতদিন চলবে? মিরপুরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা রাস্তায় নেমেছেন। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেছেন। কিন্তু তাদের কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যাচ্ছে। কারণ যারা ক্ষমতায়, তারা এই চাঁদাবাজদের সাথে জড়িত। ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই অবৈধ সরকার আসলে একটা ফ্রন্ট মাত্র। আসল খেলোয়াড়রা বসে আছে পর্দার আড়ালে। বিএনপি আর জামায়াত মাঠে সন্ত্রাস চালাচ্ছে, আর ইউনুস আন্তর্জাতিক দরবারে বৈধতা খোঁজার চেষ্টা করছেন।পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের এই প্রতিবাদ আসলে একটা বড় সত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশের সবচেয়ে সাধারণ মানুষগুলো পর্যন্ত এখন বুঝতে পারছেন যে জুলাইয়ের পরে যা হয়েছে, তা কোনো গণঅভ্যুত্থান ছিল না। ছিল একটা সুপরিকল্পিত ক্যু। আর এই ক্যুর সুবিধাভোগী হচ্ছে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী আর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা। মোহাম্মদ ফারুক যখন বলেন যে তার মাসিক আয় থেকে পুরোটাই চাঁদা দিতে হচ্ছে, তখন এটা শুধু একজন মানুষের আর্তনাদ নয়। এটা পুরো জাতির বিবেক।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।