ঢাকারবিবার , ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি

মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত আওয়ামীলীগ এবং তার সমর্থকেরা।

মোঃ শাহিনুর ইসলাম
ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সারাদেশে আওয়ামীলীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা এবং গণতন্ত্রকামী ও প্রগতিশীল নাগরিকবৃন্দের উপর সংগঠিত আক্রমণ তথা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আপসহীন উচ্চারণ ও কঠোর প্রতিবাদ।

সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে গণতন্ত্রকামী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তি, আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মী–সমর্থক, ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি এবং দলীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জান–মাল, বসতবাড়ি ও কার্যালয়ের ওপর সংঘটিত ধারাবাহিক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘলন্ডনে প্রতিবাদ সমাবেশে আওয়ামীলিগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ। টনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা এবং আপসহীন প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন বা স্বতঃস্ফূর্ত উন্মত্ততা নয়; এটি পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে নিশ্চিহ্ন করা, প্রগতিশীল কণ্ঠ স্তব্ধ করা এবং ভয়ভিত্তিক কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েমের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক আগ্রাসন।

গত কয়েকদিনে রাজনৈতিক সহিংসতা ভয়াবহ ও বর্বর রূপ ধারণ করেছে। ঢাকায় ধানমন্ডি ৩২–এর ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নে পুনরায় ভাঙচুর, চট্টগ্রামে বরেণ্য রাজনীতিবিদ প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন ও আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে হামলা, বান্দরবানে সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং–এর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, দিনাজপুরে আওয়ামী লীগ সরকারের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর বাসভবনে আগুন ও ভাঙচুর, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জাতীয় পার্টির একাংশের সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের গ্রামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং প্রগতিশীল এক্টিভিস্ট সুশান্ত দাস গুপ্ত এবং শাহিনুর ইসলামের বাড়িতে বর্বর হামলা – এসব ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সহিংসতার লক্ষ্য কেবল কোনো একটি রাজনৈতিক দল নয়। গণতন্ত্রকামী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সবাই আজ সংঘবদ্ধ মব-সন্ত্রাসের শিকার।

এই সহিংসতা বহুদলীয় গণতন্ত্র, সাংবিধানিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের ওপর সরাসরি আঘাত এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ও মুক্তচিন্তার বিপরীতে পরিচালিত লক্ষ্যভিত্তিক সন্ত্রাসের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে রাজশাহী, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এই আগ্রাসন মানুষের মৌলিক মানবাধিকার, বিশেষত জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে নাগরিককে তার বাড়ি, জীবন ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত করা মানেই রাষ্ট্রকে সচেতনভাবে ভয়, অরাজকতা ও দমননীতির পথে ঠেলে দেওয়া।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো সরকারের গঠনমূলক সমালোচক, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী এবং ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে মব-সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত করা হচ্ছে। এর ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার অধিকার এবং আইনের শাসন কার্যত ভেঙে পড়েছে; রাষ্ট্র নিজেই নাগরিক অধিকারের প্রধান হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এই সংগঠিত সহিংসতা কোনো আকস্মিক বিশৃঙ্খলা নয়; এটি একটি চরম রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিকল্পিত নিষ্ক্রিয়তা, রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার পৃষ্ঠপোষকতায় মব-সন্ত্রাস আজ একটি কার্যকর রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। দেশের বাস্তবতা এখন নির্মমভাবে স্পষ্ট এখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক কিংবা সচেতন নাগরিকই নিরাপদ নয়; মত প্রকাশ, সংগঠন করা এবং ভিন্নমত পোষণ করা নিজেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধে পরিণত হয়েছে।

ইউ’কে সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিচ্ছে আমরা এই অবৈধ, দখলদার সরকারের কাছে কোনো দাবি জানাই না। যে সরকার ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতা দখল করে, মব-সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করে এবং নাগরিকের জান–মাল ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ, তার কাছে দাবি জানানো মানে সেই অবৈধ শাসনকে স্বীকৃতি দেওয়া। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কোনো করুণা বা মিথ্যা আশ্বাস চায় না; আমরা এই সরকারের পতন নিশ্চিত করেই জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করব, নেতা–কর্মী–সমর্থক ও গণতন্ত্রকামীদের ওপর চালানো প্রতিটি নির্যাতন ও অন্যায়ের হিসেব নেব এবং জনগণের হাতে তাদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেব একটি সুষ্ঠ, নিয়মতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জনগণের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংগ্রাম আপসহীনভাবেই চলবে।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।