“শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের যে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি অনেকের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে”
(লেখাটা একটু বড় হলেও বাংলাদেশের মুক্তিকামী প্রতিটি নাগরিককে সম্পূর্ণ লেখাটি
পড়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। দয়া করে কেউ এড়িয়ে যাবেন না।)
বাংলাদেশ এখন একটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। দেশের মানচিত্র উলট-পালট হয়ে যেতে পারে এরকম একটি মহাযুদ্ধ এড়ানোর জন্য এই যুদ্ধটি আসলে অনিবার্য হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের মতো সিচুয়েশনে পড়া তৃতীয় বিশ্বের প্রায় কোন দেশই এই সুযোগটি সেভাবে পায়নি, কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা শেষ হয়ে গিয়েছে। ভৌগোলিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই হোক আর বাঙালির মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই হোক, বাংলাদেশ সব হারানোর আগেই একটি সুযোগ পাচ্ছে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য। শেখ হাসিনার রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকারটিতে আওয়ামী লীগের সুদীর্ঘ যাত্রাপথের এই দশায় এসে বর্তমানে আওয়ামী লীগের মূল উদ্দেশ্যটি আসলে কী তাই বলা হয়েছে। কিন্তু, এই নির্দেশনাগুলো সরাসরি দেওয়া হয়নি বরং যেভাবে এসেছে তা রীতিমতো চমকপ্রদ।
এই চরম অসময়ে এসে আওয়ামী লীগের মূল অবজেক্টিভটি বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের জন্যই ( হ্যাঁ, শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদের কথাই বলা হচ্ছে। দেশকে বিক্রি করে দেওয়া পশ্চিমাদের দালালশ্রেণী বা বাংলাদেশে বসবাসরত মনে-প্রাণে পাকিস্তানিদের জন্য বক্তব্যটি প্রযোজ্য নয়)। কারণ জামাত ও ইউনুস গংয়ের মূল ধান্দাই পশ্চিমাদের কাছে দেশকে বিক্রি করা এবং দেশের প্রতিটি অর্গানকে অকার্যকর করে একটি প্রক্সি ওয়ার স্টেটে নিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে প্রায় আধা ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির একটি দেশে এনিহাউ স্বাধীনভাবে লুটপাটের সুযোগ খোঁজা বিএনপির দরকার ক্ষমতা। তারেক জিয়া এজন্য আমেরিকাকে ব্ল্যাংকচেকও দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই ব্ল্যাংকচেকের পরিণতি কী তা বিএনপির অপরিণত মস্তিষ্কে হয় ঢুকছে না, না হলে তারা ক্ষমতা ও লুটপাটের লোভে দেশকেই কোরবানি দিতে প্রস্তুত আছে। এক্ষেত্রে তাদের ক্যালকুলেশন হচ্ছে তারা দাসখত দিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারলে পশ্চিমারা বাংলাদেশের বারোটা বাজাতে যে সময়টুকু নিবে, তাদের পরিপূর্ণ লুটপাটের জন্য সেই সময়টুকুই যথেষ্ট। মাত্র ৭১ বিলিয়ন ডলারের জিডিপির দেশে লুটপাট করে যদি ১৮ বছর রাজার হালে থাকা যায় তাহলে ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের দেশে পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে লুটপাট করে কী করা যেতে পারে তা চিন্তা করেই তারা শিহরিত হচ্ছে। কারণ পরের ধনে পোদ্দারি করতে কার না ভালো লাগে।
তাই আওয়ামী লীগ চাক বা না চাক বাংলাদেশকে সর্বনাশের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তাঁরা ব্যতীত আর কোন বিকল্প প্রাইম শক্তি এই মুহূর্তে এই দেশে উপস্থিত নেই। তাই আওয়ামী লীগের এখন এই তীব্র সংগ্রামের কারণ কী তা জানাটা গুরুত্বপূর্ণ সবার জন্যই এবং তা নিজেদের স্বার্থেই। শেখ হাসিনা রয়টার্সের সাক্ষাৎকারটিতে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে লীগের বর্তমানের মূল অবজেকটিভটি আসলে কী সেই ন্যারেটিভটিই প্রতিষ্ঠা করাতে চেয়েছেন।
শেখ হাসিনার মূল উদ্দেশ্যটি বুঝতে হলে সাক্ষাৎকারটির দু’টি অংশ আগে দেখা যাক ( স্বচ্ছতার জন্য ইংরেজি মূল অংশ এবং অনুবাদকৃত বাংলা অংশ উভয়টিই উল্লেখ করা হলো)।
“Hasina said she would not return to Bangladesh under any government formed after elections that exclude her party, and plans to remain in India”
“হাসিনা বলেন, এমন কোন নির্বাচনের পর গঠিত কোনও সরকারের অধীনে তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন না যেখানে তার দলকে বাদ দেওয়া হবে এবং সে পর্যন্ত তিনি ভারতেই থাকার পরিকল্পনা করছেন”
Despite the political turmoil, Hasina said the Awami League would eventually return to play a role in Bangladesh’s future — whether in government or opposition — and that her family need not lead it.
“রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও, হাসিনা বলেন যে আওয়ামী লীগ যথাসময়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের ভূমিকা পালন করতে ফিরে আসবে -তা সরকারে থেকে হোক বা বিরোধী দলেই থেকে হোক – এবং এ লড়াইয়ে তার পরিবারের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই”
বাংলাদেশকে পশ্চিমা শক্তির ষড়যন্ত্রের জাল থেকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার জন্য এই মুহূর্তে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কাউকে দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে না। জনগণ ধীরে ধীরে ব্যাপারটা বুঝতে পারছে দেখেই আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক আওয়ামী বিরোধী বাংলাদেশকে অউন করা মানুষও আওয়ামী লীগেরই বিজয় চাচ্ছে এ লড়াইয়ে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আওয়ামী লীগ এ লড়াইটা লড়ছে কেন? দেশের এই সংকটকালে আওয়ামী লীগের মূল উদ্দেশ্যটাই বা কী?
এখানেই চলে আসে ডলারখেকো এদেশীয় পাকিস্তানপন্থী পশ্চিমা দালালদের ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা। ‘আওয়ামী লীগ খালি নিজের কথা ভাবে। শেখ হাসিনা সবাইকে ফেলে চলে গেছেন। দলের সব নেতার কেউই কর্মীদের কথা ভাবেন না। শেখ হাসিনা মানুষকে উষ্কাচ্ছেন নিজের দেশে ফেরার জন্য এবং তাঁর পরিবারের ক্ষমতা লাভের জন্য’। তারা এসবই ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আসলে শেখ হাসিনা সেদিন নিরাপত্তার জন্য দেশ না ছাড়লে তাকে প্ল্যানমাফিক হত্যা করা হতো। ডিপস্টেটের পরিকল্পনার প্রথম ধাপেই থাকে তাদের বাঁধা প্রদানকারী জাতীয়তাবাদী নেতাকে হত্যা করা। বাংলাদেশে সেটি সফল হয়নি বলেই এদেশের মানুষ এখন তাদের বিরুদ্ধে রেজিস্টেন্স দেখানো শুরু করতে পেরেছে। শেখ হাসিনাকে সেদিন হত্যা করা গেলে সাধারণ মানুষের নব্যসাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে যে সময়টুকু লাগতো তার ভেতর পশ্চিমা ডিপস্টেট তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ফেলতো। ফলে মানুষ সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে করতেই টের পেত যে তাদের দেশ চলে গেছে পয়েন্ট অব নো রিটার্নে। তাই নব্যউপনিবেশবাদীদের এদেশীয় দালালদের খুব আক্ষেপ এই যে, শেখ হাসিনা কেন জীবন রক্ষার্থে সাময়িক সময়ের জন্য দেশ ত্যাগ করে তাদের প্রভুদের ব্যর্থ করতে চলেছে।
তাই এই দালালেরা বাংলাদেশের সকল মিডিয়া দখল করে উপরের বয়ানগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। আর শেখ হাসিনা মূলত চেষ্টাকেই ভেস্তে দিয়েছেন রয়টার্সের সাক্ষাৎকারটির মাধ্যমে। এখানে দু’টি পয়েন্টে ব্যাখ্যা করা যাক।
১) “হাসিনা বলেন, এমন কোন নির্বাচনের পর গঠিত কোনও সরকারের অধীনে তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন না যেখানে তার দলকে বাদ দেওয়া হবে এবং সে পর্যন্ত তিনি ভারতেই থাকার পরিকল্পনা করছেন”
এই মন্তব্যটি দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন বাংলাদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে লড়াইটি লড়ছে এবং যে যুদ্ধটির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তা কখনোই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য নয় বরং সম্পূর্ণভাবেই এদেশকে অসীম সময়ের জন্য পশ্চিমা ডিপস্টেটের গুটি হিসেবে ব্যবহার করার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার জন্য, এদেশকে পরাশক্তিদের যুদ্ধক্ষেত্র হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য এবং এদেশের জনগণের ক্ষমতা এদেশের মানুষের হাতেই তুলে দেওয়ার জন্য। এই যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারলে শেখ হাসিনা তার ফলাফলের বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে দেশে ফিরতে পারবেন, বা তিনি দেশে ফেরার মুহূর্তে বাংলাদেশ এ যুদ্ধ জিততে পারবে। কিন্তু এই অনিবার্য সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে বহু মানুষের প্রাণ যেতে পারে যার মূল উদ্দেশ্য কখনোই শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো নয় বরং নিজ দেশকে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চরম সর্বনাশের হাত থেকে রক্ষা করা।
২) “রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও, হাসিনা বলেন যে আওয়ামী লীগ যথাসময়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে ভূমিকা পালন করতে ফিরে আসবে -তা সরকারে থেকে হোক বা বিরোধী দলেই থেকে হোক – এবং এ লড়াইয়ে তার পরিবারের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই”
এখানে তিনি বুঝিয়েছেন, এই সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রামটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বা শুধু তাঁর পরিবারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার কোনো বিষয় নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই লড়াইয়ে আপামর জনসাধারণের ভ্যানগার্ড, পথপ্রদর্শক। দেশের চূড়ান্ত সংকটকালে তাঁর দল বা তাঁর পরিবার দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করার থেকে বড় না বরং তা স্বাধীনতা রক্ষা করার মূল টুলস বা অস্ত্র।
শেখ হাসিনা এখানে একটি অনন্যসাধারণ কাজ করেছেন, যা কিনা পৃথিবীর ইতিহাসেই বিরল। উনার মাপের রাষ্ট্রনায়করা কখনো নিজেকে হালকা করতে চান না। মূল ফোকাসটা সবসময় নিজের উপর রাখতে চান সবাই। রাষ্ট্রনেতারা রাষ্ট্রের থেকে বড় হয়ে উঠেন। ক্ষেত্রবিশেষে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এটা অনেক সময় কাজও করে, যদি সেই রাষ্ট্রনায়ক প্রকৃত দেশপ্রেমিক হন। কিন্তু সংকটকালে বা যুদ্ধাবস্থায় রাষ্ট্রের জনগণেরা নেতার জন্য যুদ্ধ করে না, দেশের জন্য করে। মহান নেতারা তাদের পথ দেখান, অনুপ্রেরণা দেন। তাই সংকটকালে নেতার ইমেজ ভাঙতে হয়। তাকে একদম জনগণের কাতারে এসেই দাঁড়াতে হয়। এটা না করতে পারলে যুদ্ধ যদি কেবলই নেতাকে রক্ষা করার জন্য হয় তখন একসময় যোদ্ধারা নিজেদের মারসেনারী ভেবে বসেন, আত্মত্যাগের অর্থ খুঁজে পান না।
শেখ হাসিনা এখানে মূল ফোকাসটা যে রাষ্ট্র, এবং তিনি তাকে রক্ষা করার প্রধান সেনাপতি এই ব্যাপারটিই প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের তুলনায় তিনি নিজেকে দৃশ্যপট থেকে কিছুটা হালকা করেছেন। রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে তাঁর ক্ষমতা, তাঁর পরিবারের দলের নেতৃত্বে থাকা সবকিছুই তুচ্ছ এটাই বুঝিয়েছেন। তাই সরকারে যাওয়া বা বিরোধী দলে থাকা কিছুই তাঁর কাছে ম্যাটার করে না। এ মুহূর্তে বাংলাদেশকে মুক্ত করাই শেখ হাসিনার মূল লক্ষ্য। আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূল প্রটেক্টর এদেশের সাধারণ জনগণ, যেমন এদেশের সাধারণ জনগণের সার্বভৌমত্বের ও অধিকারের মূল প্রটেক্টর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এ এক অদ্ভুত মিথোজীবীতার সম্পর্ক।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, শেখ হাসিনার এই ধারণাটি কিন্তু মৌলিক নয়। এই ভূমিরই একজন মহান জাতীয়তাবাদী নেতা প্রথম এই ধারণাটি সফলভাবে এক্সিকিউট করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ স্বেচ্ছায় পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে ধরা দিয়েছিলেন যেখানে তাঁকে হত্যা করার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তিনি এই স্যাক্রিফাইসটি করেছিলেন। তাঁর এই স্যাক্রিফাইসটি যে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের একটি মূল ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে তা এদেশীয় পাকিসত্তাদের ম্যাৎকার শুনলেই একদম পরিষ্কার হয়ে যায়। কারণ বঙ্গবন্ধু এটি না করলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করা অনেকটাই অসম্ভব হতো। বঙ্গবন্ধু এটি না করলে ম্যাসাকার আরো বড় লেভেলে হতো, উনি পাকি বয়ানে বিচ্ছিনতাবাদী নেতা হতেন যা আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানিদের গণহত্যাকে জায়েজ করতে সুবিধা দিত এ সব কিছুই সত্য। কিন্তু যা চোখ এড়িয়ে যায়, বঙ্গবন্ধুর এই স্ট্যান্ডটি মহান মুক্তিযুদ্ধকে বাঙালির মুক্তির লড়াই হিসেবেই রেখেছে। বঙ্গবন্ধু যে মাপের নেতা ছিলেন, সেসময় তাঁর সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে উপস্থিত থাকাটা পাকিস্তানি ও তাদের আন্তর্জাতিক মিত্রদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের বিপরীতে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর ক্ষমতা লাভের জন্য তৈরি হওয়া একটি গৃহযুদ্ধ এরকম একটি ভুয়া বয়ান তৈরিতে সহায়তা করতো। তাই রাষ্ট্রের মুক্তি যে তাঁর পার্থিব অস্তিত্বের থেকেও অনেক বড় ব্যাপার তাই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তিনি নিজেকে স্যাক্রিফাইস করে। ফলে, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি যোদ্ধা বঙ্গবন্ধুর নামে যুদ্ধ করেছেন ঠিকই কিন্তু তাঁরা লড়েছিলেন তাদের দেশের জন্য, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে, তাঁর অনুপ্রেরণায়। রাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য রাষ্ট্রকে মূল ফোকাসে রাখতে একজন জাতীয়তাবাদী মহান নেতার নিজেকে হালকা করার যে প্রয়োজনটা হয়, বঙ্গবন্ধু তা করেছিলেন।
শেখ হাসিনা কিন্তু তাঁর বাবার থেকেই এ শিক্ষাটি নিয়েছেন। তিনি নিজেকে দেশের তুলনায় গৌণ করে দেশকে মুখ্য করেছেন। ইউনুস , জামাত, বিএনপিদের মতো ফাটকাবাজদের কাছে এটা কল্পনারও অতীত। তাদের পক্ষে এটা অনুভব করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই দেশই যাদের অস্তিত্ব। যাদের পিতা-মাতার কবর এদেশে। যাদের সন্তানদের এ দেশেই জন্ম হয়েছে এবং হবে তাঁরা ঠিকই পরিচিত এই অনুভূতির সাথে । আওয়ামী লীগ তাদেরই দল তাঁরা সমর্থন করুক বা না করুক। শেখ হাসিনা তাদেরই নেতা তাঁরা উনার সমর্থক হোক বা না হোক। ঘোর বিপদে আত্মিক আদর্শের সাযুজ্যতায় সবাই সবার সহচর হয়ে উঠবে। তারপর?
তারপরই তো বিপ্লব!!! ডলারখেকো এবং বেকুবদের দেশকে নরক বানানোর নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত কোনো আর্টিফিশিয়াল স্যুডোবিপ্লব নয়। একদম বাঙালির খাঁটি মুক্তির বিপ্লব। যেখানে সমস্বরে শ্লোগান উঠবে,
‘লগি-বৈঠা মারো টান
রাজা যাবে পাকিস্তান’।

