পাঠচক্র মানুষকে স্বশিক্ষিত করে তোলে। বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন ঘটায়। ভাবতে শেখায় ভিন্নভাবে। নিজেকে উপস্থাপন, অন্যকে ধারণ করা থেকে শুরু করে সৃজনশীলতা, সহনশীলতা, রুচিশীলতা বাড়ায় বহুগুণ। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পাঠচক্রের আয়োজন করতে পারলে শিক্ষার্থীরা সিলেবাসের বাইরের আরও অনেক বিষয় সম্পর্কেও জ্ঞানার্জন করতে পারবেন। বই জ্ঞানের খোরাক। বই মানুষকে হাসায়, কাঁদায়, ভাবায়। ডুবুরি যেমন গভীর সমুদ্রে মণিমুক্তা আহরণ করে, তেমনই বই পাঠককে জ্ঞানের গভীর সমুদ্রে ডুব দিতে সাহায্য করে। আর বইপাঠের পর যদি পাঠচক্রের আয়োজন হয়, সেই বই আলোচনা তখন জ্ঞানের বিকাশকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করে। সুশৃঙ্খল, বিনয়ী, সহনশীল, আলোকিত সমাজ গঠনে পাঠচক্রের প্রসার জরুরি। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল মানুষ তৈরি হয়, অন্যদিকে আলস্য কাটে, মানসিক অস্থিরতা ও হতাশা দূর হয়। একটি পাঠচক্রে একে অন্যের মধ্যে যে হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়, তা অন্য উপায়ে সম্ভব নয়। তাই সুন্দর, সৃজনশীল, রুচিশীল ও মানবিকবোধসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিয়মিত বইপাঠ ও পাঠচক্র আয়োজনের বিকল্প নেই। আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শাখার আয়োজনে পাঠচক্রের আয়োজন করা হয় আজকে। প্রতি সপ্তাহর আমরা একটা বই পড়ি, তার রিভউ করি এবং অবশেষে সকলে মিলে ক্যাম্পাসের কাশফুল চত্বরে ঘাসের ওবর বসে পাঠচক্রের আড্ডা দেই। এভাবে আমাদের গতও ছয়মাস ধরে কার্যক্রম চলতেছে। বিশেষ করে যখন ছাত্রলীগের “শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয় সম্পাদক ” পদ যেহেতু আমার ওপর পড়েছে তাই আমার দায়িত্ব থেকে এইটার আয়োজন করতে হয়। এতে ছাত্রলীগের ভাইয়েরা উপস্থিত থাকেন, মাজেমধ্যে ব্যাস্ততার ভেতর কেউ কেউ উপস্থিত থাকতে পরেন না। তবুও আমাদের এ যাত্রা চলমান – আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার নির্দেশে একটি সুশিক্ষিত সমাজ বিনির্মাণে অবদান রেখে যাবো। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

