ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ এপ্রিল ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি

অবৈধভাবে জাতীয় সংসদে আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ।

মোঃ শাহিনুর ইসলাম।
এপ্রিল ৯, ২০২৬ ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ফ্যাসিবাদের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, সংসদে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘোষণা : নিষেধাজ্ঞার অন্ধকার ভেদ করেই আসবে গণজাগরণ

জাতীয় সংসদে তথাকথিত “সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬” পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাচীনতম, ঐতিহ্যবাহী ও গণমানুষের রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি সরাসরি ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপ, গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় দমননীতির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই ভূখণ্ডের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত একটি রাজনৈতিক শক্তি। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ঐতিহাসিক সংগ্রামে এই দলের ভূমিকা বাঙালির জাতীয় মুক্তির ভিত্তি নির্মাণ করেছে। পাকিস্তানি শাসনামলেও এই দলকে নিষিদ্ধ ও দমনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল; কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সেই দমন-পীড়নের পরিণতিই ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়।

বর্তমান সরকার সেই ঐতিহাসিক শিক্ষা অস্বীকার করে জাতীয় সংসদকে ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক দলকে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুস্পষ্ট অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রয়োগ। এই পদক্ষেপ কেবল একটি দলকে দমন নয়; বরং একটি অসহিষ্ণু ও দমনমূলক রাজনৈতিক ধারার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ।

এই তথাকথিত নিষেধাজ্ঞামূলক আইন সরাসরি সাংঘর্ষিক বাংলাদেশের সংবিধান এর মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১-এ যে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, এই আইন তার পরিপন্থী। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে আইন করে নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। একইসঙ্গে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭ (সমাবেশের অধিকার), অনুচ্ছেদ ৩৮ (সংগঠনের স্বাধীনতা) এবং অনুচ্ছেদ ৩৯ (মতপ্রকাশের স্বাধীনতা), এই তিনটি মৌলিক অধিকারই এই আইনের মাধ্যমে কার্যত খর্ব করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা মানে নাগরিকদের সংগঠিত রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও অংশগ্রহণের সাংবিধানিক অধিকারকে সরাসরি সীমিত করা।

তদুপরি, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ অসংগত। Universal Declaration of Human Rights-এর Article 19 মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং Article 20 সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। এই আইন উভয় অধিকারকেই লঙ্ঘন করে। একইভাবে, একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR) এ নিশ্চিত করা অধিকারগুলো সরাসরি বাধাগ্রস্ত হয়, যা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বাংলাদেশের সংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে এই তথাকথিত নিষেধাজ্ঞা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি, নাগরিক অধিকার এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছে, এই অগণতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী ও অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায়, ছাত্রসমাজ ও গণমানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই দমনমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ও সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, যার সম্পূর্ণ দায়ভার বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীকেই বহন করতে হবে।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু।।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।